বিয়ে দু' অক্ষরের একটি শব্দ।কিন্তু এর গুরুত্ব ও ব্যাখা বলে বা লিখে শেষ করার মত না।কয়েকদিন যাবত বিয়ে নিয়ে মানুষের কিছু চিন্তা খুব ভাবাচ্ছে।


"বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসি" এই যুগের ছেলেমেয়েদের একটা কমন বিষয়।এজন্য দায়ী কিছু হুজুর ও লেখক যারা ওয়াজ মাহফিলে/বইয়ে বিয়েকে খুব ইতিবাচকভাবে পেশ করেন। বিয়ে করতে রীতিমত উৎসাহিত করে তা ভাল কিন্তু বাস্তববাদী কথাবার্তা খুব কম বলেন।


বিয়ে নিয়ে ফ্যান্টাসির আরেকটা কারণ হল কাপল ভ্লগ।যুগের নতুন ফেতনা বলা যায়।কিছু কাপল পারিবারিক জীবনে অসুখী থাকলেও অনলাইনে এসে শুধু টাকা আয়ের উদ্দেশ্যে ভাল দিকটাই তুলে ধরেন।ফলে বাকিরাও আফসোস করেন।

আমি মনে করি কাপল ভ্লগের পুরো বিষয় টাই হারামে নিমজ্জিত।

(এখানে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ভিডিও করা,

পর্দার খেলাফ যেখানে হয়,

ব্যক্তিগত অনেক বিষয় গুলো পাবলিক করে,যেটা ব্যক্তিগত ইমেজের সাথে জড়িত।

খাবারের প্রদর্শনী থাকে,লোকদেখানো কাজ থাকে,বাস্তবে এক ক্যামেরাতে আরেক রূপ প্রকাশ পায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে,এগুলো মূলত কাপল ভ্লগের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর দিক।)


সত্যি কথা বলতে কি জানেন;

বদনজর খুবই ভয়ানক বিষয়।

আপনার গুড নিউজ না হয় গোপনই থাকুক।


অভিভাবকদের বলছি,বিয়ের আগে আপনার সন্তানকে হোম ম্যানেজমেন্ট শেখান,দায়িত্ব নিতে শেখান।


এজন্য হয়ত লেখক বলেছেন-

"মনে হয় বিয়ে মানেই একাকিত্ব,কষ্ট,মুড অফের দিন শেষ।সুখের ক্যালেন্ডার শুরু। 

অথচ বাস্তবতা ওই চাঁদের মতো,দূর থেকে মসৃণ মনে হলেও অতটা মসৃণ না।''


এর ফলে বিয়ের আসল উদ্দেশ্য হারিয়ে যায়।শুধু খাওয়া দাওয়া,ঘুরাঘুরির নাম বিয়ে নয়।বিয়ের কিছু উদ্দেশ্য রয়েছে-বংশবিস্তার,পরিবার গঠন,সমাজজীবন কলুষমুক্ত রাখা,মনের গভীর প্রশান্তি লাভ,এর মাধ্যমে বুঝা যায় বিয়ের গুরুত্ব কত।


কুরআনে এসেছে-

"চরিত্রহীনা নারী চরিত্রহীন পুরুষদের জন্য,আর চরিত্রহীন পুরুষ চরিত্রহীনা নারীদের জন্য,চরিত্রবতী নারী চরিত্রবান পুরুষের জন্য, আর চরিত্রবান পুরুষ চরিত্রবতী নারীর জন্য। লোকেরা যা বলে তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।"

(সূরা নূর-২৬)


বিয়ের ক্ষেত্রে আরেকটা যে বিষয় চোখে পড়ে তা হল দোষারোপ,এই ধরেন ছেলেরা বলবে,মেয়েরা টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না।আর মেয়েরা বলবে,ছেলেরা সুন্দর ছাড়া কিছু বুঝে না।হ্যাঁ কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই সত্য।সবার ক্ষেত্রে না।এজন্য শায়েখ বলেছেন,-'বর্তমানে টাকার বস্তার সাথে ময়দার বস্তার বিয়ে হয়।'


কথা সত্য!

কিন্তু,এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?আমার মতে, আমরা যদি সাধারণ দৃষ্টিতে দেখি,রাসূল (সা:)যাদের বিয়ে করেছেন তাদের অধিকাংশই বিধবা ছিলেন।মহামানব হয়েও তিনি একাজ করতে পেরেছেন।প্রশ্ন হল-বর্তমান জামানায় কয়জন বিধবা নারীকে বিয়ে করতে রাজি হন!

কয়জন সন্তানসহ নারীকে বিয়ে করতে রাজি হন!

কয়জন জীবন্ত শহিদকে বিয়ে করতে রাজি হন!

আবেগ নয় বিবেক দিয়ে চিন্তা করা দরকার।

বিধবা মানেই কি খারাপ!(ছেলে/মেয়ে উভয়ের জন্যই..)


অথচ,আমরা নিজেদের নবীজির উম্মত বলে দাবী করি,কিন্তু সুন্নত মানি না।

বিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থান এতটাই নাজুক যে,কেউ বিধবা,বয়স্ক বা সন্তানসহ নারী বিয়ে করলে ট্রলের শিকার হন।সবার কাছে হাসির পাত্র হন।

আল্লাহ মাফ করুন!

তারা মানিয়ে নিতে পারলে বাকিদের ও সমস্যা হওয়ার কথা না।


'লোকে কি বলবে' এই দোহাই দিয়ে আমরা কত হারামকে যে হালাল করে ফেলছি তা বলে শেষ করার মত না।এটার থেকে বড় বিষয় হচ্ছে আল্লাহ্ কি ভাববেন!

You must have to know-

Haram is haram

Halal is halal.


অনেক ছেলেরাই জানেন যে ৪ বিয়ে সুন্নাত!কিন্তু বিধবা নারীকে বিয়ে করা সুন্নাত এটা কি তারা জানেন না!

হয়ত জানেন,কিন্তু সামাজিক নীতির কারণে মানতে পারছেন না।


বিবাহিত জীবনে সবাই অনেক ভাল/ধনী মানুষ পাবে ব্যাপারটা এরকম না।অনেক মেয়েরাই ধনী(বিল গেটসের মত)বর চান।সবাই অনেক সুখী/বড়লোক হলে আলী(রা:) আর ফাতেমা(রা:) কে হবেন?

এখন প্রশ্ন,কেন উনারা কি অসুখী ছিলেন?আমি এটা বুঝাতে চাইনি।আমি বুঝাতে চেয়েছি,উনাদের দ্বীনদারিতার ও খুলুসিয়াতের বিষয় টা।


আমার কাছে মনে হয়,কিছু বিধবা নারী দুনিয়ার সবচেয়ে অসহায় মানুষ।কারণ,ট্যাগ লেগে যায় সে বিধবা।নতুন করে তার জন্য সংসার করা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যায়।

তবে,বর্তমানে তালাকের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে।এর অন্যতম কারণ হল আগত প্রস্তাবের ঠিক মত খোঁজ না নেওয়া,যেকোন প্রস্তাব আসলে সেটাকেই অভিভাবকরা অনেক ভাল বলে ধরে নেন।অনলাইনের বিষয় গুলো না দেখা।ইস্তেখারা না করা।ধর্মীয় ও নৈতিক দিকগুলো প্রাধান্য না দেওয়া,ফলে তালাক হয়।অনেক সময় কিছু কিছু ছেলে এটা ধরে নেয়,বিয়ে তো ৪ টা করাই যাবে।তালাক হয়ে গেলেও সমস্যা নেই।কিন্তু,মেয়েদের জন্য সেটা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


''বিয়ে করো কিন্তু তালাক দিও না,কেননা তালাকে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠে''

- হযরত আলী (রাঃ)


আসলে অনেক সুন্দরী হলে,পয়সা হলেই সুখ টেকে না।সুখের জন্য আল্লাহর খাস রহমত প্রয়োজন।কাউকে আল্লাহ তা'য়ালা পারিবারিক সমস্যা দিয়েও পরীক্ষা নেন,ধৈর্য্যধারণ জরুরি।


বিয়ের আরেকটা বড় সমস্যা হল,ছেলেমেয়ে উভয়ের যোগ্যতা ও অবস্থানের মিল না থাকা(যেটাকে কুফু বলা হয়)।

এর ফলে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

বিয়ের প্রবণতা যেরকম বেড়েছে,সেরকম তালাকের প্রবণতাও বেড়েছে।

তাই বিয়ের ক্ষেত্রে অধিক সতর্ক হওয়া দরকার।


বিয়ের সময় মেয়েদের কিছু বিষয় চোখে পড়ছিল।যেমন-পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করবে(পরিবার চাচ্ছে বিয়ে হোক),বা এখন জব করবে(প্রয়োজন নেই তারপরও,ট্রেন্ড ফলো যাকে বলে।ফ্রেন্ডরা জব করছে আমি করব এই টাইপ)।

মেয়েদের বলি,আপুরা মেয়েদের চাকরি করার বিষয় টা এত সহজ না।মেয়েদের চাকরির ক্ষেত্রে কিছু মূলনীতি আছে-


১.চাকরিটা প্রয়োজন কিনা

২.চাকরির কোম্পানিটা হালাল কিনা 

৩.পর্দার পরিবেশ আছে কিনা

৪.বাবা/ভাই/বর অনুমতি দেন কিনা


কিন্তু,এইগুলোও হয়ত অনেকেই জানেও না।মানার ও প্রয়োজনবোধ করে না।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এমন হয়ে গেছে যে,ছেলে যেমনই হোক মেয়ে লাগবে দ্বীনদার।ওদিক দিয়ে মুভি দেখা,ফ্রি মিক্সিং চলে।

বিয়েকে সুন্নত সুন্নত বলে হাজারো সুন্নত ছেড়ে দিচ্ছে।বাকি সুন্নতের খবর নাই,সেদিকে খেয়াল নেই।


বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অভিভাবকরা।এটা ফেতনার যুগ,এটা মাথায় রেখে সময়মত বিয়ে দেওয়া/করানোও জরুরি।

বিয়ের প্রস্তাব পাত্র/পাত্রীর মনমতো না হলে সমস্যা দেখা দেয়।এক্ষেত্রে দু'পক্ষের সমন্বয় অনেক বেশী জরুরি।অভিভাবকদের ও উচিত ছেলেমেয়ের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া।


ত্যাগ ও সবরের সমন্বয় করতে শিখলে বিয়ে নামক বাস্তব একটি বন্ধন অনেক সুন্দর হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দিন।

(আমিন)


বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিয়ে:আমার ভাবনা

-শেখ তাইয়্যেবা

1 تعليقات

إرسال تعليق

أحدث أقدم