প্রচন্ড শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন এক সকালে আরওয়াকে নিয়ে তার বাবা স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। পথিমধ্যে অবুঝ শিশু আরওয়া বায়না ধরলো সে আইসক্রিম খাবে। এদিকে মেয়ের কোল্ড এলার্জি। সামান্য ঠান্ডার সংস্পর্শে এলেই মেয়ে প্রচন্ড সর্দি কাশিতে ভুগে। ছোট্ট মেয়েটার সে কি কষ্ট! এইতো ক'দিন আগেই মাত্র মেয়েটা সুস্থ হয়েছে। কিন্ত মেয়ে আইসক্রিম খাবো বলে বলে কান্নাকাটি করে অস্থির হয়ে যাচ্ছে। ইমাদ সাহেব একজন বাবা হয়ে কিভাবে মেয়েকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে নিশ্চিত কষ্টের দিকে ঠেলে দিতে পারেন....!! শেষমেশ কান্না থামিয়ে আধো আধো বুলিতে ছোট্ট শিশুটি বলেই ফেললো, 'বাবা আমাকে একটুও ভালবাসো না। যদি ভালবাসতে তাহলে আমি যা চাইতাম আমাকে তাই কিনে দিতে তুমি...!'


জীবনের চলতি পথে আমরাও আরওয়া নামক অবুঝ শিশুর মতো আল্লাহর কাছে অনেক কিছু চাইতে থাকি। আল্লাহর কাছেই তো চাইবো। সবকিছুই চাইবো কারন তিনিই একমাত্র দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। দুনিয়া ও আখিরাতে তিনিই আমাদের একমাত্র উত্তম অভিভাবক। আল্লাহর কাছে না চাইলেই বরং আল্লাহ অসন্তুষ্ট হোন। সুবহানাল্লাহু তায়ালা!

রাসুল (সা.) বলেছেন-

❝যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট কিছু চায় না, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।❞ (তিরমিজি)

কিন্তু আমাদের চাওয়ার তালিকায় হয়ত এমন অনেক কিছু আছে যা আমরা খুব আন্তরিকভাবে চাচ্ছি, দিনের পর দিন সেটার জন্য কান্নাকাটি করছি তবুও তিনি আমাদের দিচ্ছেন না। তার মানে এই না যে তিনি আমাদের ভালোবাসেন না!

আল্লাহ বলেছেন- 

وَ عَسٰۤى اَنْ تَكْرَهُوْا شَیْئًا وَّ هُوَ خَیْرٌ لَّكُمْ١ۚ وَ عَسٰۤى اَنْ تُحِبُّوْا شَیْئًا وَّ هُوَ شَرٌّ لَّكُمْ١ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ۠

❝হতে পারে কোনো জিনিস তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হতে পারে কোনো জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহ‌ জানেন, তোমরা জানো না।❞

[সূরা বাকারা: ২১৬]


একজন পিতা তার সন্তানকে যেমন ভালোবাসে, বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা তার চাইতে অনেক অনেক গুন বেশি। তাই কোনটি আমাদের জন্য কল্যাণকর এবং কোনটি অকল্যাণকর তা তো আল্লাহই ভাল জানেন। তাই কখনো হতাশ হয়ে আমরা আমাদের রবের কাছে চাওয়া বন্ধ করে দিবো না। এত চাওয়ার পরও যখন বিশেষ একটা কিছু আল্লাহ আপনাকে দিচ্ছেন না তার মানে এখানেই আপনার জন্য কল্যাণ রয়েছে। আমরা অবুঝ তাই বুঝতে পারছি না। 

আমাদের আল্লাহর কাছে সব সময় এভাবে দোয়া করা উচিত যেমনটা তিনিই আমাদের কুরআনের মাধ্যমে শিখিয়ে দিয়েছেন...


رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

❝হে আমার রব! আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আগুনের আযাব হতে আমাদের রক্ষা করুন।❞ [সূরা বাকারা: ২০১]


তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বদা আমাদেরকে দুনিয়াতে সকল অকল্যাণ থেকে দূরে রাখবেন ইন শা আল্লাহ। আমরা না বুঝে ভুল কিছু চাইলেও তিনি পরম অভিভাবকত্বের ভূমিকা পালন করে, আমাদেরকে তা থেকে দূরে রাখবেন এবং আখিরাতের কঠিন মুহুর্তেও তিনি আমাদের কল্যাণকর কিছুই দান করবেন ইন শা আল্লাহ।

সর্বোপরি আমাদেরকে জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করবেন ইন শা আল্লাহ!

Post a Comment

Previous Post Next Post